তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে: আক্রান্ত হলে কী করবেন?
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
দেশের প্রতিটি ভূমি অফিসে সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে দালালের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে উপজেলা, সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের দৃশ্যমান স্থানে সরকার নির্ধারিত সেবামূল্য সম্বলিত স্থায়ী সাইনবোর্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
মন্ত্রণালয়ের মতে, ভূমি সেবায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি অফিসে চার ফুট বাই আড়াই ফুট আকারের একটি স্থায়ী সাইনবোর্ড টাঙাতে হবে। সেখানে প্রতিটি সেবার নির্ধারিত ফি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে, যাতে সেবাগ্রহীতারা সহজেই জানতে পারেন কোন সেবার জন্য কত টাকা দিতে হবে।
শুধুই অনলাইন পেমেন্ট
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভূমি উন্নয়ন করসহ সব ধরনের ভূমি সেবার ফি এখন থেকে শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন না। নাগরিকদেরও নগদ লেনদেন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন নম্বর (১৬১২২) চালু করেছে মন্ত্রণালয়। কোনো অফিসে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে এই নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্ধারিত ফি’র তালিকা
মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সেবার সরকার নির্ধারিত ফি’র তালিকাও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে-
ই-নামজারি (মিউটেশন) ফি: মোট ১,১৭০ টাকা
কোর্ট ফি: ২০ টাকা
নোটিশ জারি ফি: ৫০ টাকা
রেকর্ড সংশোধন/হালকরণ ফি: ১,০০০ টাকা
প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি: ১০০ টাকা
এই অংকের বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
খতিয়ানের সার্টিফাইড/অনলাইন কপি: ১২০ টাকা
ডাকযোগে পেতে চাইলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাকমাশুল।
মৌজা ম্যাপ সরবরাহ: প্রতি শিট ৫৪৫ টাকা
ডাকযোগে গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ১১০ টাকা ডাকমাশুল প্রযোজ্য।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত তালিকার বাইরে অন্য কোনো নামে বা বেনামে ফি গ্রহণ আইনত দণ্ডনীয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য-ভূমি সেবায় শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান।