সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৫ হাজারের বেশি হজযাত্রী, মৃত্যু ২
২১ নভেম্বর ২০২৫, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। দেশের অভ্যন্তরে মাটির ওপর কম্পনের তীব্রতা এত বেশি আগে দেখা যায়নি বলেও জানিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন—আজকের এই ভূমিকম্প বড় ধরনের বিপদের আগাম সতর্কবাণী।
তিনি বলেন,
“এখন সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে। আজকের ভূমিকম্প সেটিরই সিগনাল দিচ্ছে। প্লেট যেটা বহুদিন আটকানো ছিল, আজকের কম্পনে সেই লক খুলে গেছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।”
হুমায়ুন আখতার ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশের পূর্ব পাশে বার্মা প্লেট এবং পশ্চিম পাশে ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলে এই ভূমিকম্প হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই সংযোগস্থল (ফল্ট লাইন) আজকের কম্পনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
“৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প মানে হলো শক্তির একটি ছোট অংশ নিঃসরণ হয়েছে। আমাদের গবেষণা অনুযায়ী এই অঞ্চলে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার সমপরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে। আজকের ভূমিকম্পে খুব অল্প শক্তি বের হয়েছে; বাকি শক্তিও কোনো সময়ে বের হবে।” —যোগ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞ এই ভূতত্ত্ববিদ বলেন,
“ভাগ্য ভালো যে কম্পনটি ৭ বা সাড়ে ৭ মাত্রার হয়নি। কিন্তু অতি নিকট ভবিষ্যতে এমন মাত্রার ভূমিকম্প ঘটার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।”
তার মতে, আজকের ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার, যা ভূ-পৃষ্ঠের নিকটবর্তী হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।
ড. হুমায়ুন আখতার বলেন,
“বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের তীব্র ভূমিকম্প এর আগে দেখা যায়নি। মাটির ওপর ঝাঁকুনির তীব্রতা ছিল স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি।”
তিনি আরও বলেন, এখনই সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
“আমরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করছি—ভূমিকম্পের সময় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিজেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়া চালু করা উচিত। এতে মানুষের প্রাণহানি অনেক কমানো সম্ভব।”