মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত ১৮ মাসে রাষ্ট্র সংস্কারে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো নিয়ে ‘রিফর্ম বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সংস্কার কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত, তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রামাণ্য চিত্র এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। এতে সরকার গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্ত, আইন সংস্কার, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং কাঠামোগত পুনর্গঠনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পায়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ চরম অর্থনৈতিক সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও ব্যাপক দুর্নীতির বোঝা বহন করছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
‘রিফর্ম বুক’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন ও সংশোধিত আইন প্রণয়ন করেছে এবং ৬শটিরও বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা অর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক হার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টিকে বড় সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বইটিতে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু এবং বিচার বিভাগীয় সংস্কার উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সংস্কারের অংশ হিসেবে বিতর্কিত ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা এবং র্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ করার সিদ্ধান্তের কথাও এতে স্থান পেয়েছে।
প্রেস উইং আরও জানায়, ১৬ বছরের শাসনামলের জঞ্জাল মাত্র ১৮ মাসে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও দেশ এখন একটি সঠিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগোচ্ছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করা হয়েছে বলে বইয়ে দাবি করা হয়।
এছাড়া ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাহসিকতার চেতনাই আগামী দিনের গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ার মূল পথনির্দেশক হবে।