সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৫ হাজারের বেশি হজযাত্রী, মৃত্যু ২
২৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে, যা প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়। মূলত ক্রমবর্ধমান সংঘাত, মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ এবং বিশ্বব্যাপী সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশায় স্বর্ণের দামে বড় ধস দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭২ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়ায়। টানা নবম দিনের মতো দরপতন হয়েছে এই ধাতুটির। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে বাজারদরে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে ইরানও জানিয়েছে, এমন হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতনের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণ থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। ফলে স্বর্ণের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। যুদ্ধের প্রভাব অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৯৭ দশমিক ২৫ ডলারে নেমে এসেছে।