স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণখেলাপী ও বকেয়াদাররা প্রার্থী হতে পারবেন না
২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ এবং অন্য কিছু দেশের ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের এ পদক্ষেপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় ঘোষিত প্রায় বৈশ্বিক শুল্কব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত ‘রেসিপ্রোক্যাল’ শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্কব্যবস্থা বাতিল করে দেয়।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নোটিশে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯.৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এ শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
নতুন শুল্ক ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর অধীনে আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও এ আইনের আওতায় প্রায় সব আমদানির ওপর একটি ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে। অতীতে আদালতের বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জে সেকশন ৩০১ বহাল থাকায় এবারও এ ব্যবস্থার আইনি ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে মনে করছে প্রশাসন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার (২৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়েছে। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে ২৮ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। এ উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার মাধ্যমে বৈশ্বিক শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (এমএফএন) শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট কার্যকর শুল্কহার ১০ অথবা ১২.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া আরও ৩৮টি দেশের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে কাজ করায়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির আওতায় নির্ধারিত ২০ শতাংশ শুল্কহার পর্যন্ত চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক পুনর্বহাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর বেশি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নেই। শুক্রবারের নতুন সিদ্ধান্তের আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাদ দিলে চীনা পণ্যের কার্যকর শুল্কহার ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল।