শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও অপপ্রচার: প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কটূক্তি, অপপ্রচার এবং আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

১৯ জুন ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও অপপ্রচার: প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করা সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পোস্ট ও মন্তব্য করছেন, যা এই নির্দেশিকার পরিপন্থী। এসব পোস্ট ও অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।  

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া এবং সেসব পোস্ট শেয়ার করাও সরকারি চাকরির আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত মনিটরিং কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।  

একই সঙ্গে নিয়ম লঙ্ঘনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।  

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।