শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন ডলারে যুক্ত হচ্ছে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিতর্ক


যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারের নোটে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক।

২৭ মার্চ ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ 

মার্কিন ডলারে যুক্ত হচ্ছে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিতর্ক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর স্বাক্ষর সম্বলিত ডলারের নোট শিগগিরই বাজারে ছাড়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেওয়া ওই ঘোষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাধারণত মার্কিন ডলারের বিভিন্ন মূল্যমানের নোটে কেবল ট্রেজারি সচিব ও ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকে। কিন্তু প্রায় আড়াইশ বছরের সেই দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে এবার সেখানে প্রেসিডেন্টের নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব Scott Bessent এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব স্থিতিশীলতার পথে এগিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ‘ঐতিহাসিক সাফল্যকে’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতেই মুদ্রায় প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মূলত আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতার মধ্যেই রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.২ শতাংশ, যা ২০২২ থেকে ২০২৪ সময়ের গড় প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম। ফলে অনেক অর্থনীতিবিদ এই পদক্ষেপকে ‘সাফল্যের স্বীকৃতি’ নয়, বরং ‘ব্যক্তিগত প্রচারের অংশ’ হিসেবে দেখছেন।

এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর Gavin Newsom। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “এখন থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিনরা অন্তত পকেটের ডলারের দিকে তাকিয়ে সহজেই বুঝতে পারবেন কাকে দায়ী করতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। তখন জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি বহনকারী একটি বিশেষ স্মারক সোনার মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আধুনিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অনেকেই একে রাজতান্ত্রিক বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করছেন।

ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের ব্র্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে নিজের নাম যুক্ত করার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগও উঠেছে। ইতোমধ্যে ‘জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ এবং ‘ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার নাম জড়ানোর বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।