নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান ট্রাম্পের
২২ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা অবস্থায়ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল—ইউনিসেফ। শনিবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সংস্থার দাবি, গাজার শিশুদের জন্য এখন বাস্তবে কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই।
শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত এক নবজাতক। এর আগের দিনও ইসরায়েলি হামলায় সাত শিশু নিহত হয়।
পিরেস বলেন, “এটি যুদ্ধবিরতির সময় ঘটছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এরা কেবল সংখ্যা নয়—প্রতিটি শিশু ছিল একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবন। হঠাৎ করে অব্যাহত সহিংসতায় সব শেষ হয়ে গেছে।”
ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার ফিলিস্তিনি শিশু হতাহত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ শিশু আজীবন পঙ্গুত্বের মতো গুরুতর আঘাত পেয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কে আঘাত, পোড়াজনিত ক্ষত, এবং বিস্ফোরণে সৃষ্ট জটিল শারীরিক ক্ষতি। সংস্থাটি গাজাকে অভিহিত করছে “আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিশু অঙ্গহানি-বহুল অঞ্চল” হিসেবে।
খাদ্য সংকটও শিশুদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বহু শিশু অপুষ্টি ও ক্ষুধাজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন সংস্থা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল গাজাজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, সেনাদের ওপর হামলার জবাবে এই অভিযান। তবে হামাস বলেছে, এ দাবি “গণহত্যা পুনরায় শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত”।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় গুলিবিদ্ধ ও খোলা হাড় ভাঙাসহ গুরুতর অবস্থায় বহু নারী ও শিশুকে তারা চিকিৎসা দিয়েছে। গাজা সিটির একটি মোবাইল ক্লিনিকের নার্স জাহের বলেন, “এক নারীকে আমরা পায়ের মারাত্মক আঘাত নিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি, আর এক শিশুকে মুখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এনেছে পরিবার।”
এদিকে ইসরায়েলি অবরোধ চলমান থাকায় তীব্র শীতের মৌসুমে গাজায় তাঁবু, কম্বল ও ওষুধসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রীর সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইউনিসেফ জানায়, বহু শিশু এখনো খোলা আকাশের নিচে বা বৃষ্টিভেজা অস্থায়ী আশ্রয়ে রাত কাটাচ্ছে, যেখানে নেই কোনো হিটার বা পর্যাপ্ত কম্বল।
ইউনিসেফ মুখপাত্র পিরেস বলেন, “গাজার শিশুদের জন্য বাস্তবতা নির্মম—তাদের জন্য কোথাও নিরাপদ স্থান নেই। শীতের আগমন তাদের জন্য নতুন হুমকি। হিটার নেই, কম্বল নেই—শিশুরা রাতভর কাঁপছে ঠান্ডায়।”