শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

অফিসে উপস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পরিপত্র জারি


জনগণের সেবা নিশ্চিতকরণ ও দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিসকক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে অবস্থান করতে হবে। বুধবার (৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ 

অফিসে উপস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পরিপত্র জারি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জনসেবা নিশ্চিত করা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতি আনতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিসকক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।

বুধবার (৪ মার্চ) এ নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই অফিসে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যেমন- সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ কিংবা ব্যাংক, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে যাওয়া। এর ফলে তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন না, যা জনসেবা প্রদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দাপ্তরিক অন্যান্য কর্মসূচিও এমনভাবে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত সময় বিঘ্নিত না হয়।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিসে আগমন ও প্রস্থান বাধ্যতামূলক। নতুন নির্দেশনা সেই বিধিমালার আলোকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল থাকবে। শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও অনুষদ সদস্যরা, যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই, তারা এ নির্দেশনার আওতার বাইরে থাকবেন। এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদমাধ্যম বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রোস্টার ডিউটিতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।

জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও এ নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভিভিআইপি বা ভিআইপি প্রোটোকল প্রদান, আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবেলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্র ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। দাপ্তরিক কাজ ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, এ পরিপত্র অবিলম্বে কার্যকর হবে।