বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

জাপানে ২০২৯-এর মধ্যে ৩ লাখের বেশি বাংলাদেশি পাঠানোর লক্ষ্য


জাপানের তীব্র শ্রমসংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে বিপুল জনশক্তি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ সরকার, যেখানে সঠিক উদ্যোগ নিলে ২০২৯ সালের মধ্যে ৩ লাখের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ 

জাপানে ২০২৯-এর মধ্যে ৩ লাখের বেশি বাংলাদেশি পাঠানোর লক্ষ্য
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জাপান-এ চলমান শ্রমসংকট মোকাবিলায় বড় আকারে বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এসএসডব্লিউ ক্যাটাগরির ১৬টি খাতে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে এই চাহিদার অন্তত ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ লাখের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব।

আগে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ছয়টি খাতে কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও এখন সব ১৬টি খাতেই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাপান এখন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান বাড়াতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসডব্লিউ ও ইএসডি মিলিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জাপানের। দীর্ঘমেয়াদে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানে কাজ করতে গেলে ভাষা দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমনকি ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানের মোট চাহিদার ৫০-৬০ শতাংশ জনশক্তিও বাংলাদেশ থেকে পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-জাপানি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষক উন্নয়ন, জাপানি স্কিল ট্রেনিং জোন তৈরি এবং জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ। বর্তমানে বিএমইটির অধীনে ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু রয়েছে এবং ১৫টি কেন্দ্রে অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে। বেসরকারি খাতেও ২০০টির বেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সক্রিয়।

এ ছাড়া জাপানে কর্মী পাঠাতে বর্তমানে ৯৫টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট কাজ করছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নেপাল, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

সরকার জাপান-কেন্দ্রিক কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও শক্তিশালী করছে। মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ চালু, পৃথক ওয়েবসাইট, জনবল নিয়োগ এবং টোকিও দূতাবাসের শ্রম উইং সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—২০২৬ সালে ১০ হাজার শিক্ষার্থী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।