বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুগে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ


পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এ আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় মাইলফলক অতিক্রম করল বাংলাদেশ, যা দেশকে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশে পরিণত করেছে।

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ 

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুগে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে পদ্মার তীরবর্তী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের নানা ধাপ শেষে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের এই দিনটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তির নতুন এক স্তরে প্রবেশ করল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, নির্মাণের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশকে সহায়তা করে যাবে রোসাটম। তিনি আশ্বস্ত করেন, কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, রূপপুর প্রকল্প দেশের প্রযুক্তিগত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নেবে। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানির চালান ঢাকায় পৌঁছায়। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি চালান এনে বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে সংরক্ষণ করা হয়। মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডিল আনা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ৩১২টি করে জ্বালানি রড।

পারমাণবিক জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে তৈরি ছোট প্যালেটগুলো ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি করা হয় জ্বালানি রড। একাধিক রড একত্রে যুক্ত হয়ে গঠন করে জ্বালানি বান্ডিল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডিল ব্যবহার করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার জ্বালানি লোড করা হলে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ব্যবহৃত জ্বালানি তেজস্ক্রিয় হওয়ায় তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং প্রতিটি ধাপ নজরদারি করবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। এই জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে দেশের বহুল প্রতীক্ষিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যাত্রা।