তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে: আক্রান্ত হলে কী করবেন?
২২ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ এবং এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার নিকটবর্তী নরসিংদী জেলার মাধবদী।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র নরসিংদী হওয়ার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করেছেন গবেষক ও ভূতত্ত্ববিদরা। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণার সারাংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের একটি। দেশটি তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেট—ভারতীয়, ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত, যা ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির অধ্যাপক মাইকেল স্টেকলার ও লিওনার্দো সিবার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটি হয়েছে ভারতীয় প্লেটের গভীরে হওয়া ‘রিভার্স ফল্টিং’-এর কারণে। রিভার্স ফল্ট হলো এমন একটি ভূ-গঠন, যেখানে চাপের ফলে শিলা ব্লকের একটি অপরটির ওপর উঠে যায়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, বাংলাদেশে অন্তত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ফল্ট লাইন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী–কক্সবাজার এবং নোয়াখালী–সিলেট লাইন সবচেয়ে সক্রিয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নোয়াখালী–সিলেট ফল্ট লাইনের নড়াচড়াই নরসিংদী উৎপত্তিস্থলের ভূকম্পন সৃষ্টি করেছে।
এর আগেও ভারতীয় প্লেটের সঞ্চালন বড় ভূমিকম্প ঘটিয়েছে। গত মার্চে মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’-এর কারণে—দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় ভারতীয় ও ইউরেশিয়ান প্লেট পরস্পরকে পাশ কাটিয়ে সরছিল।
এদিকে শুক্রবারের ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবন-স্থাপনা ধসে পড়ে ও ফাটল ধরে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১০ জনের প্রাণহানি এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সাড়ে চার শ’র বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৭ জন ভর্তি এবং গুরুতর আহত ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।