শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটে আকাশছোঁয়া দাম, ক্ষুব্ধ সমর্থকদের ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগ


২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। ঠিক এই সময়ে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের দুটি সংগঠন ইতোমধ্যে এই ইস্যুতে ইউরোপীয় কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।

২৫ মার্চ ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ 

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটে আকাশছোঁয়া দাম, ক্ষুব্ধ সমর্থকদের ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) এবং ইউরোপীয় ভোক্তা সংগঠন ইউরোকনজিউমার্স যৌথভাবে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, টিকিট বিক্রির বাজারে নিজেদের একচেটিয়া অবস্থান ব্যবহার করে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়াচ্ছে ফিফা।

হিসাব অনুযায়ী, কোনো দর্শক যদি প্রতিটি ধাপ থেকে একটি করে মোট আটটি ম্যাচ দেখতে চান, তাহলে সর্বনিম্ন ক্যাটাগরির টিকিট কিনতেই প্রায় ৫ হাজার ২২৫ পাউন্ড খরচ করতে হবে। অথচ ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সাতটি ম্যাচ দেখতে এই খরচ ছিল মাত্র ১ হাজার ৪৬৬ পাউন্ড। অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় চারগুণ। অন্যদিকে সবচেয়ে দামি ক্যাটাগরির টিকিটে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ হাজার ৩৫০ পাউন্ড।

সমর্থকদের অভিযোগ, সমালোচনার মুখে ফিফা প্রায় ৬০ ডলারের কিছু সস্তা টিকিট ছেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই টিকিটের সংখ্যা এতটাই সীমিত যে সাধারণ সমর্থকদের কাছে তা পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব। সমর্থক গোষ্ঠীগুলো বলছে, এটি মূলত দেখানোর জন্য দেওয়া প্রস্তাব, যা ভোক্তা অধিকারের পরিপন্থী।

এফএসএ দাবি করেছে, টিকিটের দাম চাহিদার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তনের যে পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি টিকিট বিক্রির অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আসন সংখ্যা ও ক্যাটাগরি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।এফএসএর পরিচালক রোনান ইভেন বলেন, সমর্থকদের সামনে কার্যত দুটি পথই খোলা রাখা হয়েছে- হয় অতিরিক্ত দাম দিয়ে টিকিট কিনতে হবে, নয়তো খেলা দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে। এবারের আসরে প্রায় ৭০ লাখ টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ফিফা। সংস্থাটি এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, এতে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।