তিশার আকুতি • মায়ের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন তাসনুভা তিশা, দোয়া চাইলেন সবার কাছে।
১৩ জুন ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে নির্মমভাবে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের নিচে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খুলশী থানায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হেনস্তা করা হয় এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের গায়ে হাত তোলার এই ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান ক্রিকেটার নাঈম হাসান। ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সিএনজি নিয়ে লালখানবাজার ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছালে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার বাহন থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে।নাঈম জানান: "১১টা ২৫-এর দিকে আমার সিএনজি দাঁড় করাল, ড্রাইভারের থেকে কাগজপত্র নিল। আমি পুলিশকে বললাম, 'আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে।' কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে হঠাৎ আমার গলা চিপে ধরে বলল- তুই গাড়িতে উঠ। আমি প্রতিবাদ করে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে আসার পরও ওরা আমাকে মারধর ও হেনস্তা করা অব্যাহত রাখে।"
নাঈমের বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে দুজন ইউনিফর্মপরা পুলিশ সদস্য এবং একজন সাদা পোশাকের পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি ছিলেন। পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তিটি (যিনি মূলত পুলিশের তথ্যদাতা বা সোর্স) কোনো পরিচয় না দিয়েই লোহার পাইপ দিয়ে নাঈমকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন সাধারণ মানুষ নাঈমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করার পরও হামলা থামেনি। উল্টো তাকে বলা হয়, "তুমি আসামি, কথা বলবি না।" পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থল থেকে নাঈমকে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নাঈমের অভিযোগ, থানায় ওসির সামনে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে বলা হয়, "চোখ নিচু করে কথা বলো।" পরবর্তীতে মোবাইল ফোন হাতে পাওয়ার সাথে সাথে নাঈম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাৎক্ষণিকভাবে খুলশী থানার ওসি এবং নাঈমের বাবার সাথে কথা বলেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। বিভিন্ন মহল থেকে ফোন আসার পর পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আসে এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলা এবং আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে থাকা এই ক্রিকেটার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “আজ পর্যন্ত পুলিশ বা আর্মি আমাদের ডাকলে আমরা গাড়ি থেকে নামি, উনারা চেক করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু সোর্স আর পুলিশ মিলে লাঠি ও পাইপ দিয়ে গায়ে হাত দেবে কেন? আমার জায়গায় যদি কোনো সাধারণ মানুষ হতো, তবে কেউ আসত না, একশ-দেড়শ মানুষ প্রশ্ন করত না। পুলিশের হাতে যদি মানুষ নিরাপদ না থাকে, তাহলে আর লাভ কী!”
এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, "তিনি (নাঈম হাসান) অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি পুলিশ সদস্য হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।" পুলিশ জানায়, চোরাচালানের একটি বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চলছিল। তবে পুরো ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং মারধরের পেছনে কার দায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।