দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা-অশান্তি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করাই বিরোধীদলের উদ্দেশ্য
১৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপের অভিষেক আসরেই পরাশক্তি স্পেনের বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে একাই রুখে দিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। তার অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় অন্যতম ফেবারিট স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচ শেষের ঐতিহাসিক উদযাপনের মুহূর্তেও কান্নায় ভেঙে পড়েন এই ফুটবল বীর; কারণ, মার্কিন ভিসা জটিলতা ও অর্থের অভাবে জীবনের সবচেয়ে বড় এই অর্জনের দিনে তার পাশে থাকতে পারেননি গর্ভধারিণী মা।
আটলান্টার মাঠে খেলা শুরুর আগে কাগজের কলমে স্পেন অনেক এগিয়ে থাকলেও, মাঠে সব হিসেব-নিকেশ ওলটপালট করে দেন ভোজিনহা। পুরো ম্যাচ জুড়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো নসাৎ করে দেন তিনি। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই স্পেনকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই দু'হাতে মুখ ঢেকে মাঠের মধ্যেই কেঁদে ফেলেন কেপ ভার্দের এই নায়ক। তার এই কান্না ছিল একদিকে ইতিহাস গড়ার আনন্দ, আর অন্যদিকে এক তীব্র অপূর্ণতার। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, তখনও ভোজিনহার চোখ ছিল ভেজা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন:
"ম্যাচের পর আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, কেঁদে ফেলেছিলাম। ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে তারা আমার পাশে নেই, কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আর আমার মা-ও এখানে আসতে পারেননি। মার্কিন ভিসার জটিলতা এবং এর পেছনে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।"
মাঠে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের বীরত্ব এবং ম্যাচ শেষে তার এই আবেগঘন কান্না ছুঁয়ে গেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। ফুটবল কিংবদন্তি ও বিশ্লেষকরা তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।
বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন লিখেছেন: "পুরো ম্যাচজুড়েই রূপ ছড়িয়েছেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে তিনি যা দেখালেন, তা স্রেফ অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে মাঠের সব ক্যামেরা ছিল তার দিকেই। সতীর্থরা আঙুল তুলে বারবার বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন, কে তাদের আসল নায়ক।"
সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সন ভোজিনহার এই আবেগের গভীরতা দেখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন: "আমি নিজেই ম্যাচ শেষে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। স্পেনের বিপক্ষে এই একটি পয়েন্ট পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা কেপ ভার্দের ছিল। আজকের রাতটা স্রেফ তাদেরই। আর ভোজিনহাকে ওভাবে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরই প্রায় কান্না চলে আসছিল।"
অভিষেক বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দের এই রাতটি যেমন ফুটবলীয় রূপকথার অংশ হয়ে থাকবে, তেমনি গোলবারের নিচে ভোজিনহার লড়াই ও মায়ের জন্য তার কান্না ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে দাগ কেটে থাকবে।