দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা-অশান্তি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করাই বিরোধীদলের উদ্দেশ্য
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে গানম্যান পাওয়া মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে- রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। সরকারি পদাধিকার বলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি এবং উচ্চপদস্থ সচিবরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রটোকল পান।
তবে সাধারণ নাগরিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি মনে করেন তাদের জীবন বিপন্ন, তবে তাদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ জন্য লিখিতভাবে পুলিশকে জানাতে হয় অথবা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। এরপর গোয়েন্দা সংস্থা (এসবি) তদন্ত করে দেখে যে আবেদনকারীর সত্যিই নিরাপত্তা প্রয়োজন কি না, নাকি তিনি কেবল সামাজিক প্রভাব খাটানোর জন্য এটি চাচ্ছেন।
গানম্যান বনাম বডিগার্ড: পার্থক্য ও নিয়োগ
নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি বিভাগ কাজ করে:
বডিগার্ড: সাধারণত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রোটেকশন ইউনিট থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গানম্যান: নিয়োগ দেওয়া হয় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) বা বিশেষ শাখা থেকে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, নিয়োগের ক্ষেত্রে যার নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেহেতু সরকারিভাবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাই তাদের বেতন ও অস্ত্রের খরচ সরকার বহন করে। একজন গানম্যান সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক গুলি বরাদ্দ থাকে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও বেসরকারি নিরাপত্তা
সরকারি প্রটোকলের বাইরেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আরও কিছু পথ রয়েছে:
১. নিজস্ব নিয়োগ: কেউ চাইলে নিজস্ব বেতনভুক্ত লোক দিয়েও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নিজস্ব অস্ত্রের লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা নিয়োগকর্তার লাইসেন্সে তাকে 'রিটেইনার' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২. বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি: সরকার অনুমোদিত কোম্পানিগুলো থেকেও অর্থের বিনিময়ে গানম্যান নেওয়া যায়। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়।
৩. আনসার ভিডিপি: প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে আনসার সদস্যদের নিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, কেউ চাইলে আদালতের মাধ্যমেও নিরাপত্তার আবেদন করতে পারেন। সাবেক পুলিশ প্রধানদের মতে, গানম্যান বা বডিগার্ড বরাদ্দ দেওয়া একটি সংবেদনশীল বিষয়। এটি যেন কেবল প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং ক্ষমতার প্রদর্শনীতে পরিণত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।