তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে: আক্রান্ত হলে কী করবেন?
২ জানুয়ারী ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি আবারও এক অনন্য মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের পেশাদার ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা এখন ৮৯৬। অর্থাৎ ৯০০ গোলের ক্লাবে ঢুকতে তাঁর প্রয়োজন মাত্র চারটি গোল।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, বার্সেলোনা, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে এসব গোল করেছেন মেসি। ২০২৫ সালের শেষ ম্যাচে গত ৫ ডিসেম্বর ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে হারিয়ে এমএলএস কাপ জয়ের পর এই সংখ্যায় পৌঁছান তিনি।
বর্তমানে পেশাদার ফুটবলে ৯০০’র বেশি গোল করা একমাত্র সক্রিয় ফুটবলার হলেন মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ তারকা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সেই কীর্তি গড়েন। পেশাদার ফুটবলারদের মধ্যে এরপর সর্বোচ্চ গোলদাতা রবার্ট লেভানডস্কি, যার গোলসংখ্যা ৬৮৫। আধুনিক ফুটবলে এই দুই মহাতারকার বাইরে আপাতত ‘৯০০ ক্লাব’-এ নতুন কারও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
২০২৬ সালের এমএলএস মৌসুম শুরু হবে ২১ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল মাঠে নামবে ২৭ মার্চ, দোহায় স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা ম্যাচে। ফলে মেসির ৯০০তম গোলের জন্য ফুটবলভক্তদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরলেই প্রয়োজনীয় চার গোল করতে খুব বেশি সময় নেবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
রোনালদোর ১০০০ গোলের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ৪০ বছর বয়সী রোনালদো বর্তমানে সেই মাইলফলক থেকে প্রায় ৫০ গোল দূরে। তবে মেসি যখন ৯০০’র এত কাছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- তিনি কি ১০০০ গোলের স্বপ্নও বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন? বয়সে রোনালদোর চেয়ে প্রায় আড়াই বছর ছোট হওয়ায়, অবসরে যাওয়ার সময় তাঁর গোলসংখ্যা কি পর্তুগিজ তারকার চেয়েও বেশি হবে?
মেসির গোলযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের মে মাসে। বার্সেলোনার হয়ে আলবাসেতের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে শেষ দুই মিনিটে নিজের প্রথম পেশাদার গোলটি করেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়।মেসির ক্যারিয়ারের সিংহভাগ গোল এসেছে বার্সেলোনার জার্সিতে। ১৭ মৌসুমে কাতালান ক্লাবটির হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে তিনি করেছেন ৬৭২ গোল, যা তাঁর মোট গোলের প্রায় ৭৫ শতাংশ। পিএসজিতে দুই মৌসুমে ৭৫ ম্যাচে তাঁর গোল ৩২টি। এরপর ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৮ ম্যাচে করেছেন ৭৭ গোল।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৬ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা ১১৫। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে, যেখানে তিনি দুই গোল করেন (এছাড়া টাইব্রেকারে একটি পেনাল্টি)। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ১১৩৭ ম্যাচে তাঁর গোল ৮৯৬টি।
২০০৪-০৫ মৌসুমে ১৭ বছর বয়সে ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডের অধীনে বার্সেলোনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় মেসির। ওই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৯ ম্যাচে তিনি মাত্র এক গোল করেন। ২০০৬ সালের মার্চে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে করেন প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। ২০১১-১২ মৌসুম ছিল মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উর্বর মৌসুম। ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে সে বছর তিনি করেন ৮২ গোল। একই মৌসুমে ২৪ বছর বয়সে তিনি বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন।
পেশাদার ক্যারিয়ারে ২২ মৌসুমে মেসি একবার ৮০’র বেশি, তিনবার ৬০’র বেশি, আটবার ৫০’র বেশি এবং ১৪ বার ৪০’র বেশি গোল করেছেন। ২০০৮-০৯ থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত টানা ১৩ মৌসুমে ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে অন্তত ৩০ গোল করার বিরল কীর্তিও তাঁর দখলে। এমএলএসে ইন্টার মায়ামির হয়ে রেকর্ড গড়াও থামেনি। ২০২৫ মৌসুমে ২৮ লিগ ম্যাচে ২৯ গোল করে তিনি জেতেন এমএলএস গোল্ডেন বুট। একই সঙ্গে এমএলএস ইতিহাসে দ্রুততম ৫০ গোলের রেকর্ডও গড়েন।
১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে মেসির এখনও প্রয়োজন ১০০’র বেশি গোল। তবে সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন তিনি, যা চলবে ২০২৮ এমএলএস মৌসুম পর্যন্ত। তখন তাঁর বয়স হবে ৪১। এমএলএসে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে গড়ে প্রতি মৌসুমে ৩৬ গোল করেছেন মেসি। এই গড় ধরে রাখতে পারলে ২০২৮ মৌসুমের শেষ দিকে তাঁর ১০০০তম গোল দেখার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
সূত্র : ইএসপিএন