বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবেই: আশার বার্তা ফিফা সভাপতি
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুত ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই কমিশনের অধীনেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটারদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপার ত্রুটিপূর্ণ এবং এতে নির্দিষ্ট একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তিনি অনতিবিলম্বে প্রতীক সংবলিত সঠিক ব্যালট পেপার সরবরাহের দাবি জানান। এছাড়া ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), বিকাশ নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তার ভাষায়, “আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একতরফা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমরা বারবার অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে কারা, কখন এবং কেন এই ভোটার স্থানান্তর করেছে- তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করতে হবে।”
শেষে তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তবে এর জন্য কমিশনকে নিজেদের ত্রুটি স্বীকার করে দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।