মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত


সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে নতুন এই বেতন কাঠামো।

১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ 

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান বেতন কাঠামোর বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন প্রস্তাবে বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে প্রায় ১৮ হাজার টাকা বা তার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকারও বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:৮।

এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করেছে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি সেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন বেতন কাঠামোকে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ লাঘবের একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা করা তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে এই বেতন কাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।