মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

জন্ম নিবন্ধন সনদে ভুল তথ্য সংশোধন করবেন যেভাবে: অনলাইন আবেদন থেকে সনদ সংগ্রহ


স্কুল ভর্তি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরি কিংবা উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম নিবন্ধন সনদে সঠিক তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকলে অনলাইন ও স্থানীয় নিবন্ধক অফিসের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিনবার সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে সরকার।

১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ 

জন্ম নিবন্ধন সনদে ভুল তথ্য সংশোধন করবেন যেভাবে: অনলাইন আবেদন থেকে সনদ সংগ্রহ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জন্ম নিবন্ধন সনদে নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন। এই সংশোধন প্রক্রিয়া অনলাইনে ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নিবন্ধক অফিসে (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন) গিয়ে সম্পন্ন করা যায়। সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একজন নাগরিক সর্বোচ্চ তিনবার জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সংশোধনের জন্য প্রথমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (https://bdris.gov.bd/br/correction) প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। যদি পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকে, তবে আগে তাদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নাম সংশোধনের আবেদন করতে হবে। এরপর নিজের জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে সংশোধিত নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যাবে- যদি আগেই পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দেওয়া থাকে।

যদি নিজের জন্ম নিবন্ধন করার সময় পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দেওয়া না হয়ে থাকে, তবে সংশোধনের সময় নিজের জন্ম নিবন্ধন নম্বরের সঙ্গে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করতে হবে। পরে সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে সংশোধিত নাম দেখা যাবে।

পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকলে জন্মতারিখের ভিত্তিতে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য। নিজের জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০১ সালের আগে হলে, সরাসরি নিজের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদনে পিতা-মাতার নাম সংশোধন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলেও মৃত্যুর কোনো প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে না। তবে জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০১ সালের পরে হলে এবং পিতা-মাতা মৃত থাকলে, নাম সংশোধনের জন্য তাদের মৃত্যুর প্রমাণপত্র দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- মূল জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ (এসএসসি/এইচএসসি), পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স। জন্মতারিখ বা নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে হাসপাতালের কাগজপত্র, টিকা কার্ড বা অ্যাফিডেভিট লাগতে পারে। ঠিকানা সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ বিল বা ভোটার আইডির কপি প্রয়োজন। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০১ সালের পরে হলে এবং পিতা-মাতা মৃত থাকলে মৃত্যুর সনদের কপিও দিতে হবে।

অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ শেষে প্রিভিউ দেখে সাবমিট করতে হবে এবং আবেদনপত্র প্রিন্ট করতে হবে। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ৫০ থেকে ২০০ টাকা ফি বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। চালানের কপি সংরক্ষণ করা জরুরি।

এরপর প্রিন্ট করা আবেদনপত্র, মূল কাগজপত্র ও চালানের কপি নিয়ে স্থানীয় নিবন্ধক অফিসে জমা দিতে হবে। নিবন্ধক কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শেষে আবেদন অনুমোদন দেবেন। সবকিছু সঠিক থাকলে সাধারণত সাত থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে ডাউনলোড করা যাবে বা সরাসরি অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।