বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে মৃত ৫৬, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ জেলা


দেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দেশের সাতটি জেলা—কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই মুহূর্তে মারাত্মক বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

১৪ জুলাই ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ 

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে মৃত ৫৬, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ জেলা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দুর্গত মানুষের জন্য খোলা ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১০ হাজার ৮৫৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সংখ্যা সাতটি। এগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। তবে প্রতিবেদনে উপজেলার সংখ্যা নিয়ে কিছু অসঙ্গতি দেখা গেছে। সারসংক্ষেপে বন্যাকবলিত উপজেলার সংখ্যা ৫৯টি উল্লেখ করা হলেও জেলা-ভিত্তিক তালিকায় মোট ৫৭টি উপজেলার তথ্য রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

চট্টগ্রামে ১৫ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। বান্দরবানে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন এবং বান্দরবানে দুজন রয়েছেন।

দুর্গত মানুষের জন্য চট্টগ্রামে ৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন তিন হাজার ১৪০ জন। রাঙামাটির ৪০টি কেন্দ্রে রয়েছেন তিন হাজার ১৫৮ জন এবং বান্দরবানের ৫৪টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন দুই হাজার ৫৮৪ জন।এছাড়া মৌলভীবাজারের ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার ৭৪৫ জন, খাগড়াছড়ির তিনটি কেন্দ্রে ৩৪ জন এবং কক্সবাজারের তিনটি কেন্দ্রে ১৯৩ জন অবস্থান করছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে কতজন আশ্রয় নিয়েছেন, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং ১২২টি ইউনিয়ন বা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা, রাঙামাটির নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা এবং বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা দুর্যোগের কবলে পড়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার পেয়েছে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল। রাঙামাটির জন্য বরাদ্দ ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পৃথকভাবে পেয়েছে ২০ লাখ টাকা এবং ৪০০ মেট্রিক টন করে চাল। এছাড়া মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বাকি ৫৭ জেলার জন্যও আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলায় পাঁচ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য মোট চার কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং আট হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।