বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত সম্পদ নিয়ে নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো শুধুমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারের দ্বারা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি এসব সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি বলে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, যাদের ভোটের ম্যান্ডেট নেই, তাদের কাছে ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে বহু দশক প্রভাবিত করবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন একজন ক্ষুদ্র পোশাক ব্যবসায়ী ও একজন শ্রমিক পরিবারের সংকট—যা এলডিসি সুবিধা হঠাৎ উঠে গেলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি লেখেন, “এই মানুষগুলো কখনোই এমন সিদ্ধান্তে ভোট দেয়নি। কেউ তাদের কিছু জিজ্ঞেসও করেনি। বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়নি।” তারেক রহমানের দাবি, এলডিসি উত্তরণের সময়সূচি নিয়ে সরকার বলছে সময় বাড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু ইতিহাসে অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ সময় বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের ‘উপায় নেই’—এমন অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেশের আন্তর্জাতিক আলোচনার শক্তিকে দুর্বল করছে। তার মতে, “যোগ্য হওয়া আর প্রস্তুত হওয়া এক নয়।”
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের প্রধান কৌশলগত সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্দর নিয়ে যেসব দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো কোনোভাবেই অন্তর্বর্তী সরকারের করার কথা নয়। “এগুলো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত,” মন্তব্য তার।
তিনি অভিযোগ করেন, এলডিসি উত্তরণ ও বন্দর–উন্নয়ন—উভয় ক্ষেত্রেই সরকার কৌশলগত বিকল্পগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে এবং যুক্তিসংগত আলোচনাকে ‘গতির প্রয়োজন’ দেখিয়ে পাশ কাটানো হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করা নয়, বরং প্রতিষ্ঠান রক্ষা করার প্রশ্ন। “দশকের পর দশক দেশের জীবনে প্রভাব ফেলবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, নির্বাচিত সরকারের।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন—এটি এলডিসি উত্তরণ বা বন্দর সংস্কারের বিরোধিতা নয়; বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক কর্তৃপক্ষ নিয়ে প্রশ্ন।
তারেক রহমান পোস্টের শেষাংশে উল্লেখ করেন, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ কোনদিকে যাবে। “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়বে এই দেশের মানুষই—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বিশ্বাস নিয়ে,” মন্তব্য করেন তিনি।