শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো।

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ 

২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে লন্ডনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, দু’মাস পর দেশে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।দেশে ফেরার সময় লন্ডনের বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হট্টগোল না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন বিমানবন্দরে না যান। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে নেই, আমি আছি পরিকল্পনার মধ্যে। তারেক রহমান দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংকটময় সময়ে দেশকে খাদ্যসংকটের কিনারা থেকে উদ্ধার করেছিলেন। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারবে দলটি। তবে সামনে পথ অত্যন্ত কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সামনের পথ অসম্ভব কঠিন। এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হলে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।সভায় তিনি বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অসচ্ছল পরিবারের জন্য মাইক্রোচিপ সংযুক্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’, যা পরিবারের গৃহকর্ত্রীদের হাতে দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা খাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সরকার গঠন করলে ‘কুঁড়ি’ টেলিভিশন অনুষ্ঠান নতুনভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবায় রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব, স্বাস্থ্য খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চালু, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় বাড়াতে সরকারি সহায়তা, ছোট ওয়ার্কস্পেস, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল জনগণ পাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।