শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

‘জনগণের ভাগ্য বদলাতে ধানের শীষে ভোট দিন’- তারেক রহমান


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষই একমাত্র ভরসা।

২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ 

‘জনগণের ভাগ্য বদলাতে ধানের শীষে ভোট দিন’- তারেক রহমান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেটে প্রথম জনসভার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি জনগণের প্রতি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে যদি বাঁচাতে হয়, আগামী মাসের ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে যদি আমরা দেশে গণতন্ত্রের সূচনা করতে চাই এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই- তাহলে কোথায় সিল মারতে হবে? ধানের শীষে সিল মারতে হবে।’

দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানুষের কথা বলার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে হলে ধানের শীষ ছাড়া বিকল্প নেই।এই নির্বাচনের পেছনে বহু মানুষের তাজা রক্ত, গুম ও হত্যার ইতিহাস জড়িয়ে আছে। জনগণের সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতেই গণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতার পরিবর্তন প্রয়োজন।’

বিএনপির শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘যখন ধানের শীষ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন মানুষ নির্বিঘ্নে কথা বলতে পেরেছে, সরকারের সমালোচনা করতে পেরেছে। তখন কোনো মানুষ গুম হয়নি, খুন হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভা- সব পর্যায়ের নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, ‘১৭ বছর পর দেশে ফিরে আমি বলেছিলাম-“আই হ্যাভ এ প্ল্যান”। সেই পরিকল্পনার একটি বড় অংশ হলো কর্মসংস্থান। শিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত- সব যুবকের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

যুব সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের শুধু চাকরি নয়, দক্ষতাও দিতে চাই। বিদেশে যেতে হলে প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাব, যাতে তারা বেশি আয় করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।’

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, দেশে আবারও ‘ভোট চুরির ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে এসেছে- এনআইডি ও মোবাইল নম্বর নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ব্যালট পেপার গায়েবের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৫–১৬ বছর যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, আবারও একটি রাজনৈতিক দল সেই প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছে।’

তিনি উপস্থিত জনতাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে একটি রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করে বলেন, ‘ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণ দেখেছে কারা দেশের পক্ষে ছিল আর কারা বিপক্ষে।’

সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘যে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, তা আরও জোরদার করা হোক। প্রয়োজনে তিন গুণ বাড়ানো হোক, যাতে জনগণের ক্ষোভ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।’

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন। এর আগে দুপুরে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভা করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। মৌলভীবাজারের পর তিনি হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।