জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, আধুনিকতার নামে নারীরা ঘর থেকে বের হলে তা ‘অন্য কোনো রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই’।
মাহদী আমিন প্রশ্ন তোলেন, বিতর্কিত পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে কেন আইডি হ্যাকের দাবি করা হলো? তিনি বলেন, "বিকেল ৫টার দিকে হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানলে কেন দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর গভীর রাতে থানায় জিডি করা হলো? এই দীর্ঘ বিলম্বে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে- দাবিটি কতটা সত্য?"
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জামায়াতের বিভিন্ন নেতার অতীতে দেওয়া নারীবিদ্বেষী বক্তব্য এবং সংসদে নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "যে দল মুখে ইনসাফের কথা বলে, তারা একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি। অথচ তাদের নারী কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এটিই কি তাদের ইনসাফ?"
মাহদী আমিন দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে প্রশাসন, চিকিৎসা ও সাংবাদিকতায় নারীরা আজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যে নারীরা পুলিশের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে বিপ্লব এনেছে, তাদের অপমান করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।"
বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জামায়াত আমিরের এই মন্তব্য এবং পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের অজুহাতকে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপমান করার শামিল বলে মনে করে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "মায়ের মতোই দেশ, আর দেশের ওপর এমন কোনো হীন মানসিকতা বা নির্যাতন বাংলাদেশ মেনে নেবে না। অনলাইনের সাইবার বুলিং বা অফলাইনে হেনস্তা- প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীদের পাশে থাকবে বিএনপি।"