বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথে দল


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ঘোষিত ২৬০টির ফলে বিএনপি ও তাদের জোট পেয়েছে ১৯৭টি আসন। এতে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথ প্রায় নিশ্চিত। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসতে যাচ্ছেন একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ 

৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথে দল
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতভর ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের জোট ১৯৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৫৮টি আসন। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৪টি আসনে।

এর ফলে ৩০০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে দলকে নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান এবং নিজেও প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। নির্বাচনের এক মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন- দল সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ সময় সরকার পরিচালনা করেছেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। ফলে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর পুরুষ নেতৃত্বে সরকার গঠনের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে- বিএনপি এককভাবে ১৮০টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে বলে দলীয় দাবি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৫৪টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বিএনপি ২০২, জামায়াত ৬৪ এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে কয়েকটি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোট ছিল অনেকটাই একমুখী। দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সীমিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিরোধী ভোটকে একত্রিত করেছে। তরুণ ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। নারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য- মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ।

সংখ্যালঘু ভোটাররাও কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন। সম্ভাব্য জয়ী বা স্থানীয়ভাবে নিরাপদ প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছেন অনেকেই, যা চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ বিষয়ক গণভোট। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোট বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এতে এক কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ ও গণভোট মিলিয়ে ৬১ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে- যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ শতাংশ। ২০০৮ সালে ছিল সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ। এবার প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় নির্বাচনটি সহিংসতামুক্ত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচার ও সংস্কার অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেয়। দেড় বছরের প্রস্তুতি শেষে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন ও গণভোট। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই ফলাফল ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, ভোটার মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন এবং সংগঠনগত সক্ষমতার সমন্বিত প্রতিফলন। এখন চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল- যেখানে পরিবর্তনের প্রত্যাশা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস একসঙ্গে দৃশ্যমান হয়েছে।