‘সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে’-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর রাহুল গান্ধী
২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর কাফরুলে সম্প্রতি সংঘটিত গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলার তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা এবং সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নিবন্ধনবিহীন কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রচার করা হলেও এসব তথ্যের অনেকগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল বাবুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীকে বাইরে থেকে এনে এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
ঘটনার সময় হাফিজুল বাবুকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিতে কাফরুল থানা যুবদলের কর্মী ইউসুফ গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় ফুটপাতে কাঁচা তরকারি বিক্রি করা এক নিরীহ ব্যবসায়ীও গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ মারা যান। অপর আহত সবজি বিক্রেতা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গুলি চালানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
অপপ্রচারের অভিযোগ ও স্বজনদের দাবি
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্বাস আলী ও তার প্রতিষ্ঠিত 'আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন'-এর নাম জড়িয়ে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ। তাদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে আব্বাস আলীর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্বাস আলী রাজধানীর মিরপুরের ইব্রাহিমপুর এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। তিনি পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোনসহ দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্ররাজনীতি এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সমর্থকদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘ ২১ বছর কারাভোগের পর সমাজে ফিরে এসে তিনি নিজেকে মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তার রয়েছে একদল নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক, যারা বছরজুড়ে মানবিক ও সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দুর্যোগ, শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং করোনা মহামারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসহায় মানুষের পাশে থেকে তারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
এছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আব্বাস আলীর আর্থিক ও মানবিক সহযোগিতার নজির রয়েছে এবং এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এলাকায় একজন সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তবে আব্বাস আলীর সমর্থকদের অভিযোগ, কিছু নিবন্ধনবিহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল যাচাই-বাছাই ছাড়াই তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
জড়িতদের প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য "আমার জানামতে, এ ঘটনায় আব্বাস আলী ভাইয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আমি চাই প্রকৃত অপরাধীদেরই আইনের আওতায় আনা হোক।" - হাফিজুল বাবু, সদস্য সচিব, কাফরুল থানা যুবদল
অভিযোগ ও সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে আব্বাস আলী বলেন, "আমি সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অতীতে আমাকে 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। দীর্ঘ কারাভোগের পর আমি মানবসেবাকেই জীবনের লক্ষ্য করেছি। আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতেও মানবসেবার কাজ চালিয়ে যেতে চাই। আমার বিরুদ্ধে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বিচার আমি মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। সত্য একদিন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।"
এ বিষয়ে কাফরুল থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুলির ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।