সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

চাটখিলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড


নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেনকে (২৬) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

৬ জুলাই ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ 

চাটখিলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ২০২২ সালে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত শিশু আসমা আক্তার হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত আসমার আপন চাচাতো ভাই।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি সেলিম শাহী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজ্ঞ বিচারক তাঁর আদেশে আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কাষ্টে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাদাত আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা জানান, এর আগে তিন দফায় রায়ের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ ৬ জুলাই রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয় এবং আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিলের বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের এই অবুজ শিশু। নিখোঁজের দীর্ঘ ৯ দিন পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মুখে খোলেন শাহাদাত। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালীন সময়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি শাহাদাত হোসেন। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি শিশু আসমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পাশবিক এই নির্যাতনের পর বিষয়টি পরিবার ও সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরবর্তীতে অপরাধের আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে নিথর দেহটি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

তৎকালীন সময়ে এই নির্মম ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো নোয়াখালী জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। আসমা হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা টানা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের পর আজ আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।