সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এসআই আলতাফ হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, পুলিশ টার্গেট ছিল না: র‍্যাব


ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনি হামলাকারীদের টার্গেট ছিলেন না বলে জানিয়েছে র‍্যাব। অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে এক গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এসআই আলতাফ ও তার ছেলের ওপর হামলা চালায়। র‍্যাবের দাবি, হামলাকারীদের অধিকাংশই কিশোর গ্যাং ও মাদক সংশ্লিষ্ট এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তারা এ হামলা চালিয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ 

এসআই আলতাফ হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, পুলিশ টার্গেট ছিল না: র‍্যাব
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনি হামলাকারীদের পূর্বনির্ধারিত টার্গেট ছিলেন না বলে জানিয়েছে র‍্যাব। সংস্থাটি বলছে, অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে এক গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। পরে হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এসআই আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাটি নিতান্তই বিচ্ছিন্ন বলে মন্তব্য করেছে র‍্যাব।

সোমবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

র‍্যাব জানায়, শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করছিলেন কয়েকজন। এ সময় এসআই আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজনের সঙ্গে তার ও তার ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে হামলাকারীরা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। তারা কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে। একই সঙ্গে কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার পর পুলিশ হামলার ‘মূলহোতা’ হিসেবে প্রাইভেটকারচালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে এজাহারভুক্ত আসামি আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে আমিনবাজার থেকে র‍্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, র‍্যাব-১০ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় র‍্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলে এজাহারভুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে র‍্যাবের হাতে আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ করে আপন ও জিহাদ অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছিল। তাদের আগের অপরাধের রেকর্ডও খারাপ। তারা ওই এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া গেছে।

হামলার ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, আলাউদ্দিন এসআই আলতাফের ওপর আঘাত করেছে। জিহাদ চাকু দিয়ে তাকে জখম করে। আপন কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত এবং সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় গুরুতর আঘাত করে। আর ইমরানও গণপিটুনিতে অংশ নেয়।

পুলিশ কর্মকর্তা কেন হামলার শিকার হলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, আলতাফ হোসেন এসবিতে চাকরি করলেও ঘটনার সময় তিনি সিভিল পোশাকে ছিলেন। একজন পুলিশ সদস্য ও নাগরিক হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এক বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করেছিলেন। এ কারণে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিল না। কারণ আলতাফ হোসেন এসবিতে চাকরি করেন, উনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ ও একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল তখন মানবিকভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হামলাকারীদের প্রত্যেকেই নেশাগ্রস্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার মতে, পুরো ঘটনার পেছনে মাদকাসক্তি ছিল ‘মূল বিষয়’। তিনি বলেন, হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে সংশ্লিষ্ট- এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিষয়টিও তুলে ধরেন র‍্যাব কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হলে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ নাগরিকও অপরাধীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে অনেক নাগরিক এগিয়ে না এসে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, বিপদের সময় সহায়তায় এগিয়ে না এসে শুধু ছবি-ভিডিও করার প্রবণতা নাগরিকদের ‘নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ’।