বিসিবির এডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে রিট
২ মে ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ‘অস্কার’-এর মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। শুক্রবার (১ মে) এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় সংস্থাটি জানায়, অস্কারের জন্য যোগ্য হতে হলে অভিনয় ও চিত্রনাট্যে অবশ্যই মানুষের সরাসরি সৃজনশীল অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
চলচ্চিত্র শিল্পে এআই ব্যবহারের বিস্তারকে সামনে রেখে অ্যাকাডেমি তাদের এলিজিবিলিটি রুলসে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিনয়কে অস্কারের জন্য মনোনীত হতে হলে তা অবশ্যই একজন মানুষের সরাসরি পরিবেশনা হতে হবে। কৃত্রিমভাবে তৈরি ডিজিটাল অভিনেতা বা এআই-নির্মিত চরিত্র অভিনয় বিভাগে বিবেচিত হবে না।
একইভাবে, সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্যও মানুষের লেখা হতে হবে। এআই দ্বারা তৈরি গল্প, সংলাপ বা স্ক্রিপ্ট মৌলিক কিংবা অভিযোজিত চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কারের জন্য অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্র জগতে এআই ব্যবহারের কারণে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রয়াত অভিনেতা ‘ভ্যাল কিলমার’-এর ডিজিটাল সংস্করণকে নতুন সিনেমায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এছাড়া অভিনেতা ও কমেডিয়ান এলিন ভ্যান ডার ভেলডেন সম্পূর্ণ একটি ‘ভুয়া’ এআই অভিনেতা তৈরি করে আলোচনার ঝড় তোলেন। অ্যাকাডেমির নতুন নীতিমালা মূলত এ ধরনের কৃত্রিম সৃষ্টিকে মানুষের সৃজনশীলতার সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছাতে নিরুৎসাহিত করবে।
তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সব ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি অ্যাকাডেমি। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, সম্পাদনা বা প্রযুক্তিগত কাজের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে কোনো বাধা থাকবে না। অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, এসব প্রযুক্তি কোনো সিনেমার মনোনয়নের সম্ভাবনা বাড়াবে না বা কমাবে না। প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ বিবেচনায় দেখবে সৃজনশীল কাজের মূল অবদান মানুষের কতটা।
অ্যাকাডেমি আরও জানিয়েছে, কোনো চলচ্চিত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তারা নির্মাণ প্রক্রিয়া যাচাই করতে প্রয়োজনীয় তথ্য তলব করতে পারবে। সংস্থাটি মনে করে, নব্বইয়ের দশক থেকে ব্যবহৃত সিজিআই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রিত ও শ্রমনির্ভর একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু এআই এমন একটি প্রযুক্তি, যা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সৃজনশীল ভূমিকা পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে যা শিল্পের মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই নতুন নীতিমালা চলচ্চিত্র শিল্পে মানব সৃজনশীলতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এআই-এর সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।