বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
কঠিন সময় •

নিজেকে আর আগের মতো ভালো লাগে না, আক্ষেপ শবনম ফারিয়ার।


পিসিওএসসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন শবনম ফারিয়া। চুল পড়া, ত্বকের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও ওজন নিয়ে সামাজিক চাপ তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছে। ওজন কমানোর নানা চেষ্টা করেও সফল না হওয়া এবং মানুষের মন্তব্যে আত্মবিশ্বাস হারানোর কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ১৬ বছর বয়স থেকে এই লড়াই চলছে বলেও জানান তিনি।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ 

নিজেকে আর আগের মতো ভালো লাগে না, আক্ষেপ শবনম ফারিয়ার।
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দীর্ঘদিন ধরে পিসিওএসসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন মডেল ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। চুল পড়া, ত্বকের নানা সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং ওজন নিয়ে সামাজিক চাপ সবকিছু মিলিয়ে এই দীর্ঘ লড়াই তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা খোলামেলা তুলে ধরেন শবনম ফারিয়া। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পিসিওএসের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তিনি অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে অ্যান্ড্রোজেনজনিত চুল পড়া ও ত্বকের সমস্যাগুলো তার আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলছে।

শুধু শারীরিক পরিবর্তন নয়, ঘুমের সমস্যাও তাকে বেশ ভোগাচ্ছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করছেন। শেষ কবে টানা সাত আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে স্বাভাবিকভাবে সকালে উঠেছেন, সেটিও মনে করতে পারছেন না বলে নিজের লেখায় উল্লেখ করেন তিনি।

শবনম ফারিয়া আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার সঙ্গেও লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। এর পাশাপাশি ওজন কমানোর জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছেন না। না খেয়ে থাকা, কঠোর ব্যায়াম ও ওজন তোলার মতো শারীরিক পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। এমনকি না খেয়ে থাকার কারণে কয়েকবার রক্তে শর্করা কমে গিয়ে অজ্ঞান হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

নিজের চিকিৎসা ও শারীরিক সমস্যা সামলাতে নিয়মিত বিভিন্ন ওষুধ ও পরিপূরক গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন শবনম। মেটফরমিন, ওমেগা-৩, জিংক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ইনোসিটল, কোএনজাইম কিউ-১০, ফলিক অ্যাসিড, এল-কারনিটিন ও ম্যাগনেশিয়াম গ্লাইসিনেটসহ বেশ কিছু নাম তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন। প্রতিদিন এত কিছু সামলানোর বিষয়টিও তার কাছে মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

শারীরিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে তার আত্মবিশ্বাসেও। নিজের চেহারা ও শরীর নিয়ে আগের মতো স্বস্তি অনুভব করেন না বলে জানিয়েছেন শবনম। নতুন শাড়ি পরার পর শেষ কবে নিজেকে আয়নায় দেখে ভালো লেগেছিল, সেটিও মনে করতে পারছেন না বলে লেখেন তিনি। বিশেষ করে পেট ও থুতনির বাড়তি চর্বি নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে সাজগোজ থেকেও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

ওজন নিয়ে অন্যের মন্তব্যও তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। বিভিন্ন দাওয়াত বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে ইচ্ছা করে না তার। কারণ সেখানে প্রায়ই নিজের ওজন ও শরীর নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য শুনতে হয়। "এত মোটা হয়ে গেছ কেন", "জিমে যাও না" কিংবা "খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করো" এ ধরনের মন্তব্য তাকে বিব্রত ও মানসিকভাবে আরও চাপে ফেলে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, শারীরিক পরিবর্তনের প্রভাব তার অভিনয়জীবনেও পড়ছে। কোনো নতুন চিত্রনাট্য হাতে পেলেই চরিত্রটি কীভাবে করবেন, তার আগে নিজের ওজন এবং পর্দায় তাকে কেমন দেখাবে এসব চিন্তা মাথায় আসে বলে জানান শবনম। ফলে কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের শরীর নিয়ে নানা অনিশ্চয়তার সঙ্গেও তাকে লড়তে হচ্ছে।

নিজের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে শবনম ফারিয়া জানান, মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকে এই লড়াই শুরু হয়েছে। অর্থাৎ কৈশোর থেকেই শারীরিক নানা পরিবর্তন ও সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংগ্রাম একসময় তার জীবনযাপন, আত্মবিশ্বাস, সামাজিকতা এবং পেশাগত জীবন সবকিছুর ওপরই প্রভাব ফেলেছে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

তার এই দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে শবনম ফারিয়া শুধু নিজের অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেননি, বরং শরীরের গঠন ও ওজন নিয়ে সামাজিক মন্তব্য একজন মানুষের মানসিক অবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছেন। দীর্ঘদিনের এই লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে শেয়ার করে নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।