ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, চেরনিহিভে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার কাছে অভিনয় জীবনের অনেক স্মৃতির মধ্যে বিশেষ জায়গা দখল করে আছেন প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না। একসময় বড় পর্দায় এই জুটির উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল। একসঙ্গে একাধিক সফল সিনেমায় অভিনয় করা এই দুই তারকার সম্পর্কের স্মৃতিতে যেমন ছিল কাজের অভিজ্ঞতা, তেমনি ছিল অভিমান, প্রতিশ্রুতি আর তা পূরণের গল্প। সম্প্রতি মান্নাকে ঘিরে পুরোনো স্মৃতি বলতে গিয়ে তেমনই এক ঘটনার কথা জানিয়েছেন পূর্ণিমা।
পূর্ণিমার ভাষ্য অনুযায়ী, মান্নার সঙ্গে তাঁর জুটি শুরু হয়েছিল "সুলতান" সিনেমার মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেন তাঁরা। পর্দায় তাঁদের রসায়নও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তবে সব অভিজ্ঞতা যে সমান আনন্দের ছিল, তা নয়। "স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ" সিনেমায় অভিনয়ের সময় নিজের চরিত্রের গুরুত্ব তুলনামূলক কম মনে হওয়ায় মান্নার প্রতি কিছুটা অভিমান জমেছিল পূর্ণিমার মনে।
অভিনেত্রী জানান, ছবিটিতে তাঁর চরিত্রের পরিসর নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে মান্নার প্রতি অভিমান প্রকাশের পর তাঁকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই অভিনেতা। পূর্ণিমাকে একক নায়িকা করে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি সিনেমা নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।
পূর্ণিমার কথায়, মান্না শুধু আশ্বাস দিয়েই থেমে থাকেননি, পরবর্তী সময়ে নিজের কথা রেখেছিলেনও। তাঁর প্রযোজনায় নির্মিত "মনের সাথে যুদ্ধ" সিনেমায় একক নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান পূর্ণিমা। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল বলেও জানান তিনি।
অভিনেত্রীর স্মৃতিচারণে, মান্নার প্রযোজিত আগের ছবিগুলোতে সাধারণত দুজন নায়িকা থাকতেন। কিন্তু "মনের সাথে যুদ্ধ" ছিল ব্যতিক্রম। এই সিনেমায় নায়ক ছিলেন দুজন, আর নায়িকা হিসেবে একাই ছিলেন পূর্ণিমা। ফলে ছবিটি তাঁর অভিনয়জীবনের স্মৃতিতে আলাদা গুরুত্ব নিয়ে রয়েছে।
একটি সিনেমায় চরিত্রের গুরুত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া অভিমান যে পরবর্তী সময়ে সুন্দর এক স্মৃতিতে রূপ নিতে পারে, পূর্ণিমার এই অভিজ্ঞতা যেন তারই উদাহরণ। সহকর্মীর দেওয়া কথা রাখা এবং সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন মান্নার প্রতি পূর্ণিমার শ্রদ্ধা ও ভালো লাগার জায়গাটিও তাতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অভিনয় জীবনের বাইরেও জীবন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন পূর্ণিমা। তাঁর মতে, জীবনের সৌন্দর্য কেবল ব্যক্তিগত সুখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, জীবন অনেক সুন্দর। জীবনের মানে হচ্ছে কর্ম। কর্মময় জীবন হলে, মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে তখন জীবন আসলেই সুন্দর।
নিজের জীবনের কাছে প্রত্যাশা কী এমন প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমা জানান, আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে চান এবং ভালো কাজ করে যেতে চান। তাঁর এই বক্তব্যে জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে যুক্ত রাখার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।
১৯৯৮ সালে ঢালিউডে যাত্রা শুরু করেন পূর্ণিমা। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং, টেলিভিশন নাটক ও উপস্থাপনাতেও কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়া এই অভিনেত্রীর কাছে মান্নার সঙ্গে কাজের স্মৃতিগুলো আজও বিশেষ। বিশেষ করে "মনের সাথে যুদ্ধ" সিনেমার পেছনের ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, পর্দার বাইরের সম্পর্ক ও প্রতিশ্রুতিও কখনো কখনো শিল্পীদের জীবনে গভীর ছাপ রেখে যায়।