শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
এআই অপপ্রচার •

লাইক-শেয়ারের প্রতিযোগিতায় মানবিকতা হারাচ্ছে সমাজ- মেহজাবীন


এআই ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ভিউ, লাইক ও আয়ের জন্য অন্যকে অপমান করা কোনো বিনোদন নয়। এসব কনটেন্ট শেয়ারকারীরাও ক্ষতি ছড়ানোর দায় এড়াতে পারেন না। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় মানবিকতা ও অন্যের প্রতি সম্মান বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ 

লাইক-শেয়ারের প্রতিযোগিতায় মানবিকতা হারাচ্ছে সমাজ- মেহজাবীন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করে কাউকে হেয় করার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর মতে, এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া নিছক বিনোদন নয় বরং এটি গুরুতর অপরাধ এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিউ, লাইক ও শেয়ার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় একজন মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করাকে কীভাবে আয়ের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

মেহজাবীনের মতে, এআই দিয়ে তৈরি মিথ্যা কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেন, তখন এর ক্ষতিকর প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে দায় শুধু কনটেন্ট নির্মাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং যারা জেনেশুনে এসব ছড়িয়ে দেন, তাঁদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি তুলে ধরে অভিনেত্রী লেখেন, কাউকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য তাঁকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করার প্রয়োজন কেন? প্রত্যেক মানুষই স্বতন্ত্রভাবে সম্মান পাওয়ার অধিকারী এমন ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর বক্তব্যে।

কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের বাস্তবতাও স্বীকার করেছেন মেহজাবীন। তবে সেই আয়ের জন্য অন্য কাউকে অপমানিত বা অসম্মানিত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা অর্জন কিংবা অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা কখনোই অন্যের ক্ষতির কারণ হওয়া উচিত নয়।

অভিনেত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের অপপ্রচারের শিকার শুধু নারী বা পুরুষ কোনো একটি গোষ্ঠী নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রচার কিংবা এর শিকার হওয়ার ঝুঁকি সবারই রয়েছে।

তাঁর উদ্বেগের বড় জায়গা হলো, যারা এসব কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের পাশাপাশি সেই বিপুলসংখ্যক মানুষও দায় এড়াতে পারেন না, যারা সেগুলো শেয়ার করেন, আলোচনা করেন এবং আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।

সবশেষে মেহজাবীনের বক্তব্যের মূল সুর অনলাইনে কোনো কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার আগে তার সত্যতা, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে ভাবা জরুরি। সামান্য কিছু ভিউ বা জনপ্রিয়তার জন্য অন্যের মর্যাদাহানি করা এবং তাতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।