বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যয়: ১১ জনের মৃত্যু, পানিবন্দী হাজারো মানুষ


টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত তিন দিনে জেলায় পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে টানা পাঁচ দিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে তীব্র নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

৭ জুলাই ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ 

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যয়: ১১ জনের মৃত্যু, পানিবন্দী হাজারো মানুষ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে ভাসছে কক্সবাজার। জেলার ১০টি উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে মঙ্গলবার কক্সবাজার সদরে নতুন করে পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে; এ নিয়ে গত তিন দিনে জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে টানা পাঁচ দিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে তীব্র খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে থাকা একটি বসতঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে। এতে নাছিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী নিহত এবং তার স্বামী ও এক শিশু সন্তান আহত হন। এর আগে গত রবি ও সোমবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও তিন দিন এই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় দেওয়া তথ্যমতে, টেকনাফ পৌরসভা ও সদরসহ ৪টি ইউনিয়নের অন্তত ৮০০ পরিবার এবং লেদা, জাদিমুড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় ৭০০টি আশ্রয়ঘর প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। খাবারের তীব্র সংকটে দিন কাটছে উপদ্রুত এলাকার মানুষের।

এদিকে আরসিপি-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৫ হাজার ৮১৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

টানা পাঁচ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে এবং তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষণ না থাকায় বড় ধরনের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, দ্বীপে ফিরতে না পেরে টেকনাফে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে আছেন শতাধিক বাসিন্দা।

রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা বর্তমানে পানির নিচে। কক্সবাজার পৌরসভার হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা ও বাস টার্মিনালসহ প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া, পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।