শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

মশা নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিকা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই, সারা দেশে বাড়ছে ভোগান্তি


জাতীয় নির্দেশিকা ও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও দেশে কোথাও কার্যকরভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। পরিকল্পনার অভাব, তদারকির ঘাটতি ও দায়িত্বহীনতায় রাজধানীসহ সারা দেশে মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ 

মশা নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিকা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই, সারা দেশে বাড়ছে ভোগান্তি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীসহ দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন—কোনো পর্যায়েই মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়নে চরম ব্যর্থতা রয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে ছয় মাসের মশক নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো পর্যায় থেকেই এমন পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়নি। একইভাবে ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত প্রতি মাসে মশা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও মানা হচ্ছে না।

স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক জনপ্রতিনিধিই এ ধরনের নির্দেশিকা বা কমিটির অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা কেউ করেননি। বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাকাল ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি জানান, কখনও মশা সংক্রান্ত কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি, কোনো সভায় ডাকা হয়নি কিংবা কোনো বরাদ্দও দেওয়া হয়নি।

পৌরসভাগুলোর অবস্থাও একই। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে মশার তথ্য সংগ্রহ করে জেলা পরিষদে পাঠানোর নিয়ম থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। উপরন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে মেয়র ও কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করায় পৌর প্রশাসন আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির। জেলা পর্যায়ে ২৬ সদস্যের কমিটি থাকার কথা থাকলেও অনেক কর্মকর্তাই জানান, তারা কখনও এ বিষয়ে কোনো সভায় অংশ নেননি। এতে বোঝা যায়, নীতিমালাটি কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সিটি করপোরেশনগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বছরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালু রাখা, ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত ওষুধ স্প্রে করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নিয়মিতভাবে হচ্ছে না। মশককর্মীদের কাজ তদারকির দায়িত্ব থাকলেও তা কার্যকর নয়।

বাসাবাড়ির ভেতরে মশার উৎস ধ্বংসে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা খুব কমই দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে মশককর্মীরা বাসার ভেতরে ওষুধ ছিটান না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, মশককর্মীরা কাজ করতে গেলে অনেক সময় বাধার মুখে পড়েন। তবে বকশিশ নেওয়ার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং ড্রেনে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকার কারণে মশার উৎসস্থল ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়নের অভাব, সমন্বয়হীনতা এবং তদারকির দুর্বলতায় মশার উপদ্রব ক্রমেই বাড়ছে। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে সারা দেশের মানুষ।