মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

আগামী শনিবারের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম চালুর নির্দেশ, না হলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের আশঙ্কাজনক প্রবণতা রোধ এবং স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) সুযোগ বাড়াতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী শনিবারের (১১ জুলাই) মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে বাধ্যতামূলকভাবে ‘লেবার রুম’ বা স্বাভাবিক প্রসবকক্ষ স্থাপন করতে হবে। এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাতিল করে তা সিলগালা করে দেওয়া হবে।

৬ জুলাই ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ 

আগামী শনিবারের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম চালুর নির্দেশ, না হলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সোমবার সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে দেশের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণের চেয়ে তাদের কাছে অর্থ উপার্জনই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের স্বাস্থ্যখাতে। একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।"

একটি সিন্ডিকেটের অনৈতিক বাণিজ্যের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই কিছু দালালচক্র এবং বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র প্রসূতির পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’-এমন কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি করে পরিবারগুলোকে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়। মা ও শিশুর জীবন নিয়ে কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই এই ফাঁদে পা দেয়। চিকিৎসকদের এই অনৈতিক চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপদ মাতৃত্ব ও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরেকটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে এখন থেকে দক্ষ ‘মিডওয়াইফ’ বা ধাত্রী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গর্ভবতী মায়েরা স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে মানসিকভাবে উৎসাহিত হবেন।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে প্রায় এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজারই নারী কর্মী নিয়োগ পাবেন, যাদের একটি বড় অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন।

বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি রোজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বক্তারা প্রসূতি সেবার মানোন্নয়ন, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণ এবং দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে মিডওয়াইফদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।