অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির
৭ জুলাই ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটির শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিগত বছরগুলোতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে নানা অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ থাকলেও এবার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া নয় বরং বাংলাদেশ সরকার নিজেই কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। বাজারটিতে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে এখন থেকেই সরকার এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, এবারও যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত আবারও বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।
অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে তা আবার চালু হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে আবারও বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। পরবর্তীতে ২০২২ সালের আগস্টে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু হলেও নানা আইনি জটিলতা ও শর্তের বেড়াজালে ২০২৪ সালের ১ জুন আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার দ্বার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিভিন্ন শর্ত শিথিল করার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলতে থাকে।
২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় ভিসা পেয়েও যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাকি সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি কর্মীর ভাগ্য এখনও ঝুলছে। তাদের বিষয়েও দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন অভিবাসন খাতের অংশীজনেরা।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এই ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমেই সব আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে শ্রমবাজার আবারও চালুর এই ঘোষণা এলো, যা দেশের রেমিট্যান্স খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।