রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

পাকিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়িবোমা হামলা, সেনা-পুলিশসহ নিহত ২৭


পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়িবোমা হামলায় সেনা, পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীসহ মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকায় সংঘটিত এ হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।

২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ 

পাকিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়িবোমা হামলা, সেনা-পুলিশসহ নিহত ২৭
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলায় সেনা, পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীসহ মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম ট্যাংক জেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্চলটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।

সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১২ জন সেনাসদস্য, দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বন কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া হামলায় অংশ নেওয়া ১২ জন হামলাকারীও নিহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হামলাকারীরা নিরাপত্তা চৌকিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চৌকির সীমানা দেয়ালে আঘাত করলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এ অভিযানে চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী অংশ নেয়। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।

সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সশস্ত্র হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে প্রতিবেশী বান্নু জেলাতেও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৬২০ জন থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ২ হাজার ৩৩১ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের তথ্য বলছে, দেশজুড়ে হামলার সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।