দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনে সংঘর্ষ, ১০ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ
২৫ জুলাই ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে টানা আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি আদায় করে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’। তবে আন্দোলন চলাকালে পশ্চিমবঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে রাজ্যের গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলকাতার ধর্মতলায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা একটি বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিল থেকে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে পানির বোতল ও জুতা নিক্ষেপ এবং তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ’ নামে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং এতে সিজেপির দেবদত্ত গঙ্গোপাধ্যায়সহ বামপন্থি সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। যদিও সিজেপিকে বৈধ ছাত্র সংগঠন হিসেবে তিনি স্বীকৃতি দেননি।
সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা যাবে না। খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কলকাতা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একাধিক প্ররোচনার পরও পুলিশ সংযম দেখিয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে রাজ্যের গুন্ডা দমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী কয়েকজন অভিযুক্তের নামও প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আফরোজ, নাহিদ, তনভির, রাহুল ও জামালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, হামলায় আহত ছয়জন সাংবাদিক বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তারা কেউই সাধারণ শিক্ষার্থী বা নিট আন্দোলনের প্রকৃত অংশগ্রহণকারী নন।