সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৫ হাজারের বেশি হজযাত্রী, মৃত্যু ২
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে যখন শরীর তা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তখনই হিটস্ট্রোক দেখা দেয়। এটি দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জীবননাশের কারণ হতে পারে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ:
হিটস্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমিভাব, দ্রুত হৃদস্পন্দন, ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যাওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে পড়া।
কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে ছায়াযুক্ত বা শীতল স্থানে নিতে হবে। শরীরের অতিরিক্ত পোশাক খুলে দিতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে বা স্পঞ্জ করতে হবে। সম্ভব হলে ফ্যান বা এসির বাতাসে রাখতে হবে। দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন থাকলে তাকে পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অজ্ঞান বা অর্ধচেতন অবস্থায় কাউকে মুখে কিছু খাওয়ানো বিপজ্জনক- এ ক্ষেত্রে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ:
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব-যদি কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস মেনে চলা যায়। গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং পানিশূন্যতা এড়ানোই এখানে মূল বিষয়।
প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে জরুরি। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি, লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি বা ওরস্যালাইন খাওয়া উচিত। এতে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক থাকে। ডাবের পানি বা লেবুর শরবতও ভালো বিকল্প।
দ্বিতীয়ত, রোদ এড়িয়ে চলা দরকার। বিশেষ করে দুপুর ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে যেতে হলে ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন এবং হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, যাতে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারে।
তৃতীয়ত, শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরে থাকলে ফ্যান বা এসি ব্যবহার করুন, না থাকলে জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন। বারবার মুখে ও শরীরে পানি দেওয়া বা গোসল করাও শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
চতুর্থত, অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। গরমের সময় ভারী কাজ, ব্যায়াম বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা শরীরের ওপর চাপ বাড়ায় এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
পঞ্চমত, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। তেল-চর্বিযুক্ত ও ভারী খাবারের বদলে হালকা ও পানিযুক্ত খাবার যেমন ফলমূল (তরমুজ, শসা, কমলা) বেশি খান। এগুলো শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
সবশেষে, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর দিন-কারণ তারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সংক্ষেপে, সচেতনতা, পানি পান এবং রোদ এড়িয়ে চলাই হিটস্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।