কাফরুলে গুলি: অপপ্রচারের অভিযোগ, আব্বাস আলীর সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা
২৯ জুলাই ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ফ্যাটি লিভার বা মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)। একসময় এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এটি শিশুদের সবচেয়ে সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ শতাংশে। এই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিশু ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী ভারতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের ওপর পরিচালিত একটি স্কুলভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের প্রায় ৬২ শতাংশের শরীরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই ফ্যাটি লিভার রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশুর এই সমস্যা থাকতে পারে। আক্রান্ত অনেক শিশুরই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড কিংবা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্য ও লিভারের রোগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি দীর্ঘদিন কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ধীরে ধীরে লিভারে চর্বি জমতে থাকে, যা পরবর্তীতে প্রদাহ, লিভারের ক্ষতি এবং গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত না হলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ এবং লিভারের মারাত্মক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু চর্বিযুক্ত খাবার নয়, বরং স্থূলতা ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সই শিশুদের ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়। এর সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র আট সপ্তাহ স্বাস্থ্যকর ও কম-চিনিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে বয়ঃসন্ধিকালীন শিশুদের লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। গবেষকদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার বা রান্নার তেলকে দায়ী করার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, বিপাকীয় সমস্যা, জিনগত প্রবণতা এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের সম্মিলিত প্রভাবেই এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা তাই ওজন কমানোর পাশাপাশি পেটের অতিরিক্ত মেদ নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ এবং সামুদ্রিক মাছ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রান্স ফ্যাটের পরিবর্তে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিজ্ঞানীরা ভিটামিন ই–এর বিশেষ রূপ টোকোট্রিয়েনল নিয়েও গবেষণা করছেন। পাম তেল ও রাইস ব্র্যান অয়েলে পাওয়া এই প্রাকৃতিক উপাদানটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রাণী ও মানুষের ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এটি লিভারের চর্বি, প্রদাহ এবং ক্ষত কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি এখনো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা, প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং স্ক্রিন টাইম সীমিত রাখা। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সূত্র: এনডিটিভি।