মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

পানি বিক্রেতা কিশোর সুজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পড়াশোনার দায়িত্ব নিল সরকার


ফুটপাথে পানি বিক্রি করে বাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুজনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

২১ জুলাই ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ 

পানি বিক্রেতা কিশোর সুজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী, পড়াশোনার দায়িত্ব নিল সরকার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ফুটপাথে পানি বিক্রি করে বাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্নের কথা জানানো কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন। একইসঙ্গে তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দেন। 

অনুদান প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী সুজনের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানান, তাকে আর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা কায়িক শ্রমে না পাঠিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। তিনি বলেন, সুজনের শিক্ষাজীবনের সব ব্যয় সরকার বহন করবে। এ সময় সুজনের বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি আর ছেলেকে রাস্তায় পানি বিক্রি করতে দেবেন না। যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজের প্রান্তিক মানুষের ছোট ছোট মানবিক বিষয়েও অত্যন্ত সংবেদনশীল। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা এমন ঘটনা তার নজরে এলে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।  সুজনের বাবাকে হজে পাঠানোর ইচ্ছা অত্যন্ত মহৎ। তবে সরকারের প্রত্যাশা, সে যেন রাস্তায় কাজ না করে পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলে এবং ভবিষ্যতে নিজের যোগ্যতায় বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সুজনের অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, পরিবারের আর্থিক সংকট এবং বাবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিবারটির জন্য নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে। এই সহায়তা সরাসরি সুজনের বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে সুজনকে আর জীবিকার জন্য রাস্তায় নামতে না হয় এবং সে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। সরকারের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে সুজন লেখাপড়া শেষ করে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং একদিন নিজের স্বপ্ন ও পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।