বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

গ্যাসসংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ


দেশে চলমান গ্যাসসংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানি ও জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

২৮ জুলাই ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ 

গ্যাসসংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশে চলমান গ্যাসসংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি এলএনজি আমদানিসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।  গ্যাসসংকটের কারণে দেশের মানুষ, বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প উদ্যোক্তা এবং গণপরিবহনের যাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসের চাহিদা মূলত দুটি উৎস থেকে পূরণ করা হয়। একটি দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস এবং অন্যটি আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), যা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) হয়ে রিগ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।  গত সপ্তাহে একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটির মাধ্যমে এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজিনির্ভর পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ত্রুটি দ্রুত সমাধানে কাজ করছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে এক্সেলারেট এনার্জির আঞ্চলিক প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও সংকটের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ত্রুটিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেখান থেকে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি পাঠান। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, মালয়েশিয়ার পক্ষে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জানানো হবে। জনগণের এই দুর্ভোগ সরকারও গভীরভাবে অনুভব করছে। সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা এবং আরপিজিসিএল দিনরাত কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে টেলিফোন আলাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।  আলোচনায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকট এবং তা মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মত বিনিময় করেছে। তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।