‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর: যে চলচ্চিত্রের হাত ধরে শুরু হয়েছিল ঢাকাই সিনেমার যাত্রা
৪ আগস্ট ২০২৬, ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সচিবালয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত এই আইন গুম প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।
খসড়া আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে অপরাধীর জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকার্যও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন আইনে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এছাড়া সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।
এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের উদ্দেশ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে আইন ও বিচার বিভাগের প্রস্তাবিত ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।
এদিকে, মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। সরকার জানিয়েছে, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়া এসব নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল, ফলে এর বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।
মন্ত্রিসভা জানায়, গত ২৯ জুন ওষুধ ও কসমেটিকস আইন অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ এবং এমনভাবে ওষুধের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।