সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তি দানে আজীবন ভোগের অধিকার, বিল পাস


নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে বিরোধী দল এর কয়েকটি বিধানের বিরোধিতা করে। পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাব নাকচ করে বিলটি পাস হয়।

৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ 

শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তি দানে আজীবন ভোগের অধিকার, বিল পাস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটির কয়েকটি বিধান কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে বিরোধী দল আপত্তি জানায়। পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হলে বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনে সম্পত্তির ওপর আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন।

বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তার সন্তান বা নাতি-নাতনিকে অথবা সন্তান-নাতি-নাতনি বিপরীতক্রমে, কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলে সম্পত্তির ভোগাধিকার বহাল থাকবে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ওই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

বিলটি উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলেও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন আইনের ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা কিংবা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে এসব পদ্ধতির সঙ্গে নতুন বিধানের কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও তৈরি হবে না।

বিল পাসের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে তার কোনো প্রশ্ন নেই। তবে প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এভাবে আইনটি উপস্থাপন করা হলে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আইনের মাধ্যমে প্রকৃত হকদারের অধিকারও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন আইনটি হেবা কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষ্য, এখানে মুসলিম আইনকে স্পর্শ করা হয়নি এবং প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর হেবা নয়।

তিনি বলেন, নতুন আইনের কারণে হেবা বা অন্য কোনো বৈধ পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না। মূলত সামাজিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করেই এই বিল আনা হয়েছে। কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ হওয়ার পর ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হয়।