সচিবালয়ে এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি
১২ জুন ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা করার’ কোনো বিধান বা প্রভিশন রাখা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। এ বিষয়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সকালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে সমালোচনা করে। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের সূত্র ধরে বিষয়টি সামনে এলে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, "আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই।"
প্রকৃত বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূলত জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে ‘মৌজা রেট’ ও ‘প্রকৃত বাজারমূল্যের’ পার্থক্যের কারণে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা যে আইনি জটিলতায় পড়েন, তা নিরসনে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ নয়।
গত বছরই একটি নিয়ম করা হয়েছিল যে, কেউ ৫ কোটি টাকায় জমি বিক্রি করলেও যদি কম মৌজা রেটের কারণে ১ কোটি টাকায় রেজিস্ট্রেশন হয়, তবে বাকি ৪ কোটি টাকা বৈধ প্রমাণ সাপেক্ষে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫% গেইন ট্যাক্স দিয়ে। এবার বাজেটে ক্রেতাদের (বায়ার) জন্যও একই রকম একটি স্বস্তির বিধান যুক্ত করার চিন্তা করা হয়েছে। যেমন- কেউ ২০ কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনলেও যদি রেজিস্ট্রেশন ৩ কোটি টাকায় হয়, পরবর্তীতে এনবিআর বাকি ১৭ কোটি টাকার ওপর জরিমানা ও বাড়তি কর দাবি করে। এই ঝামেলা থেকে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে ২০% অতিরিক্ত কর প্রদানের মাধ্যমে তা ঘোষণার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন যে, এটি মূলত রিয়েল এস্টেট খাতের রেজিস্ট্রেশন জটিলতা দূর করার প্রয়াস। তবে এই প্রভিশন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে নীতি নির্ধারকরা তা বিবেচনা করবেন। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সম্পূরক বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্বীকার করেন যে, জমির সরকারি মৌজা রেট এবং প্রকৃত বাজারমূল্যের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, "আমরা মাত্র দেড় মাসের মধ্যে বাজেট তৈরি করায় অনেক কিছু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শেষ করতে পারিনি। তবে মৌজা রেটের বিষয়টি রিভিউ করার জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, সারা বাংলাদেশে মৌজাভিত্তিক একটি বড় জরিপ (সার্ভে) পরিচালনা করা হবে। কারণ এক এক মৌজার জমির বাজারের মূল্য এক এক রকম, আবার চাষাবাদের জমির মূল্য ভিন্ন। এই জরিপ শেষ করে মৌজা রেটকে যখন প্রকৃত বাজারমূল্যের (মার্কেট রেট) কাছাকাছি নিয়ে আসা সম্ভব হবে, তখন এই খাতকে কেন্দ্র করে কালো টাকা তৈরি বা সাদা করার আর কোনো সুযোগই থাকবে না।