রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়


দীর্ঘ রাজনৈতিক আলোচনা ও জোট সমীকরণের পর অবশেষে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়। রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কংগ্রেসসহ একাধিক দলের সমর্থনে সরকার গঠন করে বিজয় ইতিহাস গড়লেন, কারণ প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দলের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জোট আলোচনা শেষে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তামিল চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়। রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। শপথ গ্রহণের পর ভাষণ শেষে বিজয় রাজ্যপাল ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ছবি তোলেন। এ সময় রাহুল গান্ধীর হাত উঁচিয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান তিনি, যা উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি করে।

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কংগ্রেসের সমর্থন। দলটির পাঁচজন বিধায়কের সমর্থন বিজয়ের জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করে। এছাড়া বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির দুইজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও সিপিআই (এম)-এর দুইজন করে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের দুই বিধায়কের সমর্থনও পান তিনি। সব মিলিয়ে জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০ জনে।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা ৫১ বছর বয়সী বিজয়ের দল সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায়। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় টানা পাঁচ দিন বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চালাতে হয় তাকে। এ সময় গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠকও করেন তিনি।

বিজয়ের সঙ্গে একই দিনে আরও নয়জন মন্ত্রী শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান, যিনি নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এছাড়া শপথ নিয়েছেন বিজয়ের ঘনিষ্ঠ ও দলের নির্বাচনী কৌশলবিদ আধব অর্জুন। টিভিকে-র নির্বাচনী জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। তিনি লটারি ব্যবসায়ী সান্টিয়াগো মার্টিনের জামাই হিসেবেও পরিচিত।

মন্ত্রী তালিকায় আরও রয়েছেন নির্মল কুমার, যিনি বিজেপি ছেড়ে টিভিকে-তে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাদুরাইয়ের তিরুপারানকুন্দ্রম আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক আনন্দও শপথ নিয়েছেন। চেন্নাইয়ের টিনগর আসন থেকে জয়ী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক টিকে প্রভু এবং চিকিৎসক অরুণ রাজ। অরুণ রাজ আইআরএসের চাকরি ছেড়ে বিজয়ের দলে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া চেন্নাইয়ের মায়লাপুরের নতুন বিধায়ক পি ভেঙ্কটারামননকে বিজয়ের সরকারের ‘ব্রাহ্মণ মুখ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথ নেওয়া সদস্যদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ কীর্তন, যিনি বিরুধুনগর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে, দুইটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। তবে এরপরও তাঁর জোট সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। কারণ প্রায় ছয় দশক ধরে রাজ্যের রাজনীতি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেই ধারার বাইরে গিয়ে এবার নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল বিজয়ের টিভিকে।