শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

আজ পবিত্র আশুরা


অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামের প্রতীক পবিত্র আশুরা আজ বাংলাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর শোক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, কোরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে কারবালার শহীদদের স্মরণ করছেন। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

২৬ জুন ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ 

আজ পবিত্র আশুরা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম ইসলামের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার সেই কালজয়ী চেতনাকে ধারণ করেই প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় দিনটি স্মরণ করে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ কারবালা প্রান্তরে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত মুসলিম উম্মাহর প্রতি সমবেদনা জানান।

আজকের দিনটি অতিবাহিত করতে দেশের মুসলমানরা নফল রোজা পালন করছেন। দিনভর বিভিন্ন মসজিদে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। অনেক ইসলামি প্রতিষ্ঠানে কারবালার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে, আশুরার আগের দিন দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও আশুরা উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল ও শোক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। মিছিল ও সমাবেশ যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে শেষ হতে পারে, সেজন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এবারের তাজিয়া মিছিলে যেকোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, তলোয়ার ও বল্লম বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীজুড়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।