বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

‘ফিফা ব্যবসা করতে আর্জেন্টিনা ও মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চায়’:মিশর কোচ


বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে মিশর। ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে টানা ৩ গোল করে আলবিসেলেস্তেরা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর, ম্যাচজুড়ে চরম বিতর্কিত রেফারিং ও কারচুপির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর দাবি, টুর্নামেন্টে ব্যবসায়িক স্বার্থ টিকিয়ে রাখতেই ফিফা পরিকল্পিতভাবে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে জেতানো হয়েছে।

৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ 

‘ফিফা ব্যবসা করতে আর্জেন্টিনা ও মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চায়’:মিশর কোচ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, "নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে ফিফা আর্জেন্টিনা ও মেসিকে টুর্নামেন্টে রেখে দিতে চায়। যদি তারা আগে থেকেই আর্জেন্টিনার জয়ই চেয়ে থাকে, তাহলে অন্য দলগুলোকে এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানায় কেন?" ম্যাচটিকে 'সম্পূর্ণ কারচুপি' আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “পুরো বিশ্ব এই নাটক দেখেছে। আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলেছি, আজ ফুটবল মোটেও ন্যায্য ছিল না।”

ম্যাচের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে গেছে দাবি করে রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হোসাম হাসান। তাঁর অভিযোগ, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জিকোর করা একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ম্যাচের শেষ দিকে মিশর একটি নিশ্চিত পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিল, যা রেফারি এড়িয়ে গেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা পরিষ্কার একটি পেনাল্টি পেতাম, কিন্তু রেফারি সেটি দেননি। জিকোর গোলটিও বাতিল করা হয়, অথচ সেটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল ছিল।”

ম্যাচে এমন অন্যায়ের শিকার হওয়ার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চলতি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো আর না দেখার ঘোষণা দিয়েছেন এই মিশরীয় কোচ। নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমি এই বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো আর দেখব না। তবে মাঠে যদি ন্যায্যতা বজায় থাকে, আমি আমার খেলোয়াড়দের বলেছি-আমরা বিশ্বের যেকোনো বড় দলের বিপক্ষেই লড়াই করে জিতে আসার সামর্থ্য রাখি।"

এদিকে হোসাম হাসানের এমন গুরুতর ও বিস্ফোরক সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা) বা ম্যাচ অফিসিয়ালদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।