ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, চেরনিহিভে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটে ব্যাটারদের ব্যাট উঁচিয়ে অভিবাদনের জবাব দেওয়ার দৃশ্য নতুন কিছু নয়। সাধারণত সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি কিংবা বড় কোনো মাইলফলক ছুঁলেই এমন উদযাপনে মেতে ওঠেন তাঁরা। কিন্তু ইনিংসের প্রথম রান নেওয়ার পরই ব্যাট তুলে সতীর্থদের অভিবাদন জানানো এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকাল ঠিক এমনই এক মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন দাস। তাঁর মুখের মুচকি হাসি আর ব্যাট তুলে ধরার ভঙ্গিতে যেন ফুটে উঠেছিল দীর্ঘদিনের চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বস্তি।
লিটনের এই উদযাপনের পেছনে ছিল কঠিন এক সময়ের গল্প। আগের কয়েকটি ইনিংসে ধারাবাহিকভাবে রান না পাওয়ায় চাপে ছিলেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। টানা চার ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার হতাশা নিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম রানটিও তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল বিশেষ কিছু। তাই স্কোরবোর্ডে নিজের নামের পাশে এক রান যোগ হতেই ব্যাট তুলে উদযাপন করেন লিটন।
শূন্যের বৃত্তে আটকে পড়েছিলেন লিটন
একসময় ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিটনের জন্য সাম্প্রতিক সময়টা ছিল বেশ অস্বস্তিকর। পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরই যেন বদলে যায় চিত্র। পরপর কয়েকটি ইনিংসে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
টানা চার ইনিংসে শূন্য যে কোনো ব্যাটারের আত্মবিশ্বাসে এমন পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে। লিটনের ক্ষেত্রেও সেই চাপ কাজ করছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম রান করার পর তাঁর উদযাপন দেখে বোঝা যাচ্ছিল, রান পাওয়াটাই তখন কতটা স্বস্তির ছিল।
কোহলির সঙ্গে মিলে গেল লিটনের মুহূর্ত
লিটনের এই ব্যতিক্রমী উদযাপনের সঙ্গে অনেকের মনে পড়ে যেতে পারে ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলির কথা। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর রানের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন কোহলি। সেই ম্যাচে প্রথম রান করার পরই মুষ্টিবদ্ধ হাত শূন্যে তুলে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
তবে প্রথম রান পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ধীরে ধীরে ইনিংসে থিতু হয়ে দলের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন এই ডানহাতি ব্যাটার। বাংলাদেশের স্কোর যখন ২২৩ রানে চার উইকেট, তখনও ইনিংসের গতি ধরে রাখা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় লিটনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। এবারও ব্যাট তুলে অভিবাদনের জবাব দেন লিটন। তবে প্রথম রানের পরের উদযাপন আর পঞ্চাশ পূর্ণ করার উদযাপনের মধ্যে ছিল স্পষ্ট পার্থক্য। প্রথমটি ছিল কঠিন সময়ের মধ্যে স্বস্তির প্রকাশ, আর দ্বিতীয়টি ছিল চাপ কাটিয়ে ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি।
লিটনের এই ইনিংস বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মাঝের ওভারে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে দল যখন কিছুটা চাপে, তখন তাঁর হাফ সেঞ্চুরি ইনিংসকে স্থিতিশীলতা দেয় এবং বাংলাদেশকে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যেতে সহায়তা করে।
ক্রিকেটে সব উদযাপনের পেছনে থাকে না বড় কোনো রেকর্ড কিংবা ব্যক্তিগত অর্জন। কখনো কখনো দীর্ঘ ব্যর্থতার পর একটি রানও হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিটন দাসের ব্যাট তুলে ধরার সেই মুহূর্ত যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল ব্যাটারের কাছে রান শুধু সংখ্যা নয়, কখনো কখনো তা স্বস্তি, সাহস আর নতুন করে শুরু করার প্রতীক।